Tuesday, August 31, 2010

পানি খেয়ে ওজন কমান!

একটা খুবই প্রচলিত সিক্রেট ডায়েট প্লান আছেঃ বেশি করে পানি খাও, তুমি কিছু ওজন কমাতে পারবে। বিজ্ঞান এবার এই কথাটির স্বীকৃতি দিল।

প্রায় তিন মাস ধরে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা খাবার আগে ২ গ্লাস করে পানি খায় তারা, যারা খাবার আগে পানি খায় না তাদের থেকে ৫ পাউন্ড বেশি ওজন কমাতে পারে।

সমীক্ষাটি মধ্য ও তার থেকে বেশি বয়সীদের উপর করা হয়, এবং এটা যে কোন বয়সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

এখানে একটা common sense-ও কাজ করে- বেশি করে পানি খেলে আমাদের পেটে আর খাবারের জন্য যায়গা থাকে না। তখন এম্নিতেই খাবার কম খাওয়া হয়।

এইখানে একটা কথা না বলে থাকতে পারছিনা, আমাদের ইসলাম ধর্মে অনেক আগেই বলে দেয়া হয়েছে খাবার সময়  বেশি করে পানি খেতে। এতে করে শরীর ভালো থাকে। বিজ্ঞানীরা এতদিনে এটা স্বীকার করল।

লেখিকা তার প্রকাশিত সংবাদে আরও বলেন, এই গবেষণার জন্য ৫৫-৭৫ বছর বয়সী সকলের জন্য প্রতিদিনের সর্বোচ্চ গড় ক্যালরী গ্রহণের সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয় ১২০০-১৫০০ ক্যালরী। এর মধ্যে অর্ধেকের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা খাবার গ্রহনের পূর্বে মোট ১৫ আউন্স পানি গ্রহন করতে দেয়া হয়। ১২ সপ্তাহ পর দেখা যায়, যারা খাবার আগে পানি গ্রহণ করেনি তারা ১১ পাউন্ড ওজন কমিয়েছে আর যারা পানি গ্রহণ করেছে তারা ১৫.৫ পাউন্ড ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র পানি বেশি গ্রহণ করার কারণে।

-রেজওয়ান
EmilY Sohn, Mon Aug 23, 2010 01:00 PM ET এর Discovery News-এ প্রকাশিত সংবাদ অবলম্বনে

গাড়ী উৎপাদন করবে অক্সিজেন!!!

একদিকে পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, জ্বালানীর ব্যবহার বাড়ছে, কার্বণ-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হচ্ছে, আর অন্যদিকে গাছ কেটে ফেলে আমরা নিজেদের জন্য বসতির ব্যবস্থা করছি। তাই আমরা যে পরিমাণ কার্বণ-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করছি তা শুষে নেয়ার মত গাছ এখন আর পৃথিবীতে অবশিষ্ট নেই। আর তার উপরে আমরা ব্যবহার করছি গাড়ী, যা পৃথিবীতে জ্বালানীর ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সর্বোপরি বাতাসে কার্বণ-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ী।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, একটি average আমেরিকান গাড়ী বছরে ১১,৪৫০ পাউন্ড বা প্রায় ৫ টন এবং একটি হাল্কা ট্রাক বছরে প্রায় ১৬,০৩৫ পাউন্ড কার্বণ-ডাই-অক্সাইড বাতাসে নিঃসরণ করে (সুত্রঃ http://www.epa.gov/otaq/consumer/f00013.htm)। আরেক সমীক্ষায় দেখা যায়, বায়ুদূষণের মনুষ্যসৃষ্ট মূল কারণ গুলোর মধ্যে ২ নম্বরে রয়েছে গাড়ী থেকে নির্গত গ্যাস (সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)। এর ফলে পৃথিবীতে "গ্রীণহাউস ইফেক্ট" সৃষ্টি হচ্ছে, যা পৃথিবীতে কোন প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য খুবই জরুরী।

যাকে নিয়ে এত জল্পনা কল্পনা, যার নামে এত অভিযোগ, সেই গাড়ীই যদি আমাদের এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করে, সেই গাড়ীই যদি প্রমাণ করে সে মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে, বাতাসে দুষণ ছড়াবে না, তাহলে কেমন হয়!

গাছকে বলা হয় প্রকৃতির ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। কারণ গাছ বাতাস থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে তা থেকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করে প্রকৃতিতে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য একান্ত জরুরী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, আমরা (পৃথিবীর বাসিন্দারা) প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়াচ্ছি তা  আর গাছের পক্ষে শুষে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু কেমন হত যদি গাড়ী শুষে নিত এই কার্বণ-ডাই-অক্সাইড আর বাতাসে ছড়িয়ে দিত অক্সিজেন!

চাইনিজ গাড়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Shanghai Automotive Industry Corporation সম্প্রতি প্রস্তুত করেছে এমনি এক গাড়ীর ডিজাইন।  গাছের অক্সিজেন তৈরীর প্রক্রিয়াকে ফোটোসিন্থেসিস বলে। চাইনিজ এই প্রতিষ্ঠানটি তার উদ্ভাবিত গাড়ীতে এই পদ্ধতি যুক্ত করবে বলে দাবী করছে। ফোটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়ায় এই গাড়ীটিও বাতাস থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে নিজের জন্য জ্বালানী প্রস্তুত করবে এবং বিনিময়ে বাতাসে ছেড়ে দেবে অক্সিজেন, যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একান্ত অপরিহার্য। যদিও গাড়ীটির ডিজাইন এখনও স্কেচে রয়ে গেছে, তারপরও এটি একটি গুরুত্বপুর্ণ উদ্ভাবন বলেই মনে করা হচ্ছে।

সাংহাই এক্সপো-২০১০ এ চায়নাতে General Motors-এর সাথে partner SAIC এই YeZ কনসেপ্ট গাড়ীর ডিজাইন প্রদর্শন করে। YeZ-এর উচ্চারণ হবে Yea-Zi, যা ম্যান্ডারিন চাইনিজ ভাষা থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে "পাতা"।


গাড়ীটির ডিজাইন থেকেই দেখা যাচ্ছে যে, এটি একটি পাতার আকৃতির গাড়ী, যার ছাদ হবে পাতার মত।

গাড়ীটির প্রযুক্তিগত কোন বিষয় বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে A Xinhua Article অনুযায়ী YeZ ডিজাইনার Ma Zhengkun-এর মতে, গাড়ীটির ছাদে থাকা সোলার সেল সুর্য থেকে শক্তি গ্রহণ করে বিদ্যুত উৎপন্ন করবে আর চার চাকা ঘুরে ঘুরে বাতাস থেকে শক্তি অর্জন করবে। CNET Asia Blogger-এর Juniper Foo-এর মতে গাড়ীটির ফ্রেম তৈরী হবে এমন এক অর্গানিক ধাতু দিয়ে, যা কার্বণ-ডাই-অক্সাইড আর পানির সাহায্যে বিদ্যুত উৎপন্ন করে একটি লিথিয়াম ব্যাটারিতে সঞ্চয় করে গাড়ীটি চালাতে সাহায্য করবে।

তবে এই কৃত্রিম ফোটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়াটি নিয়ে বানিজ্যিকভাবে কাজ করতে ২০৩০ সাল লেগে যাবে। আর আরেকটি বিষয় হল, যেই প্রযুক্তি এই গাড়ীটি ব্যবহার করছে তা বাস্তবে রূপ দিতে যে পরিমাণ resource প্রয়োজন পড়বে তা justified কিনা, তাও দেখার বিষয় আছে।


-রেজওয়ান
(Discovery News, Car Absorbs CO2: Spews Oxygen অবলম্বনে লিখিত।)
সুত্রঃ (http://news.discovery.com/tech/car-absorbs-co2-spews-oxygen.html)

Monday, August 23, 2010

কাঁচের জানালা থেকেই সৌরবিদ্যুত !!!

কখনও ভেবে দেখেছেন, প্রতিদিন বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ বাড়ছে তাতে কিছুদিন পর পৃথিবীর অবস্থা কথায় গিয়ে দাঁড়াবে? প্রতিদিন যে হারে গাড়ী বাড়ছে, কলকারখানা স্থাপন হচ্ছে, প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে, বোধকরি আমাদের জ্বালানী চাহিদা বাড়ছে, তাতে কিছুদিন পর আমরা যে সংকটে পড়তে যাচ্ছি তার কোন সমাধান যদি এখনি খুঁজে বের করা না যায় তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের রেখে যেতে হবে এক আগ্রাসী বসবাসের অযোগ্য বাসস্থান।


এই সবকিছুর মধ্যেও কিছুটা আশার বাণী হচ্ছে যে, পৃথিবীতে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি আছেন যারা এই বিষয়ে মারাত্মক ভাবে সচেতন। তারা সবসময় চিন্তায় মগ্ন, কি করে এই অবস্থা থেকে উথে আসা যায়। এদের-ই মত একটা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নরওয়ে ভিত্তিক এনসল। এখানে তাদের-ই একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের কথা তুলে ধরা হল-


সম্প্রতি নরওয়ের সোলার পাওয়ার কোম্পানি এনসল নতুন একটি সোলার সেল উদ্ভাবন করেছে। এই পদ্ধতিতে পাতলা ফিল্ম সোলার প্রযুক্তি কিছুর ওপর স্প্রে করে সেটিকে সোলার কালেকটর হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। 


সোলার রিসেপ্টর কিভাবে কাজ করে
ছবিঃ সংগ্রহ (ইন্টারনেট)


জানা গেছে, এই ফিল্ম সোলার সেল ব্যবহারে স্রেফ কাঁচের জানালাকেও সোলার সেলে রূপান্তর করা যাবে। আর স্প্রে করার পরও জানালা আগের মতই দেখাবে। কিন্তু কাজ করা যাবে সৌরসেলের মতোই। এই পদ্ধতির সৌরসেল তৈরিতে এনসলকে সহযেগিতা করছে লিচস্টার ইউনিভার্সিটির ফিজিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগ।


সোলার সেল ব্যবহার করে সম্পূর্ণ কাঁচের তৈরী বাড়ীকে বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন করা যায়



লিচেস্টার ইউনির্ভাসিটির ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ের অধ্যাপক ক্রিস বিনস জানিয়েছেন, এই ফিল্ম ব্যবহারে বাড়ির কাঁচের সব জানালাগুলোই শক্তি ও বিদ্যুত উৎপাদনের কাজ করবে। 

এনসল জানিয়েছে, ২০১৬ সাল নাগাদ এই সোলার সেল বাজারে আসতে পারে।

-রেজওয়ান(বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/মিন্টু/এইচবি/আগস্ট ১৯/১০ অবলম্বনে)

অ্যান্টিভাইরাস ছাড়া পিসি! আদৌ সম্ভব?

কম্পিউটার ব্যবহার করলে ভাইরাসের মুখোমুখি হওয়া যেন অনিবার্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেটের অসীম দুনিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে হাজারো ভাইরাস। কম্পিউটারকে এসব হাজারো ম্যালওয়্যার, অ্যাডওয়্যার, ট্রোজান হর্স থেকে বাঁচাতে প্রতিরোধক এবং প্রতিষেধক হিসেবে অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করার কথা বলে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক বিষয়ক প্রতিটি সিকিউরিটি ফার্মই। আর তার সাথে পেন-ড্রাইভ ভাইরাস তো আছেই।


কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষের বেলায় ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ বলে যেমন একটি কথা রয়েছে, তেমনি একই কথা কি কম্পিউটারের বেলায়ও খাটে? ওষুধ না খেয়েও যেমন আমরা সুস্থ থাকতে পারি, কম্পিউটারকেও কি অ্যান্টি-ভাইরাস ছাড়া আদৌ নিরাপদ রাখা সম্ভব?

অনেকেই অ্যান্টিভাইরাস পছন্দ করেন না। এটি পছন্দ না করারও সঙ্গত কারণ রয়েছে। অ্যান্টিভাইরাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে- এটি কম্পিউটারের গতি কমিয়ে দেয়। কারণ ছাড়াই ভাইরাস অ্যালার্ট, আর বারবার স্ট্যাটাস পপ-আপ দিয়ে বিরক্তও কম করে না। সেইসঙ্গে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কিনতে গুচ্ছের গাঁটের পয়সাও খরচ করতে হয়। এমনকি প্রতি বছর নতুন আপডেটের সঙ্গে লাইসেন্স ফি হিসেবেও বেরিয়ে যায় বিস্তর পয়সা (যারা লাইসেন্সড্‌ এন্টিভাইরাস ব্যবহার করেন)। 

কিন্তু অ্যান্টিভাইরাস না নিয়ে কম্পিউটার নিরাপদ রাখা কি সম্ভব? 
হ্যাঁ সম্ভব। 
‘সচেতন’ থাকলে অ্যান্টিভাইরাস ছাড়াই কম্পিউটার নিরাপদ রাখা সম্ভব।

অ্যান্টিভাইরাসের ঝামেলা ছাড়াই কম্পিউটারকে ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে হলে কিছু নিরাপদ কম্পিউটিং-এর অভ্যাস করতে হবে। 

আসুন জেনে নেই এই বিষয়গুলোর বিস্তারিত-


ভাইরাস বনাম অ্যান্টি-ভাইরাস

ভাইরাস মুলত এক ধরনের প্রোগ্রাম যা নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীর চোখের আড়ালেই তার কম্পিউটারের ক্ষতি করতে থাকে। অন্যদিকে, অ্যান্টি-ভাইরাস হলো এক ধরনের সফটওয়্যার যা ভাইরাসের সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেয় এবং নিষ্ক্রিয় করে দেয়। স্রেফ গেম খেলার কম্পিউটারে ভাইরাস তেমন বড় আকারের সমস্যা হিসেবে দেখা না দিলেও যারা কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন, নেটওয়ার্ক কিংবা ইন্টারনেট যাদের জন্য দরকারি উপাদান, তাদের জন্য এটি একটি ভয়াবহ সমস্যা













প্রতিদিন ইন্টারনেটে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা ধরনের ছোট-বড় ক্ষতিকারক সব ভাইরাস। অ্যান্টিভাইরাস তৈরির প্রতিষ্ঠান এভিজি-র মতে প্রতিদিন ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ভাইরাস যুক্ত হচ্ছে ইন্টারনেটে। এসব ভাইরাস পিসির প্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলে, পিসির অপারেটিং সিস্টেম ক্র্যাশ থেকে শুরু করে পুরো হার্ডডিস্কেরই ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে অ্যান্টিভাইরাস ভাইরাসের এই বিশাল জগতে আপনার পিসির পাহারাদার।



ডাউনলোড বিষয়ে সচেতনতা
যদি কেউ শুধু কমার্শিয়াল সফটওয়্যার ব্যবহার করেন এবং কখনও ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা সফটওয়্যার ইনস্টল না করেন তবে ভাইরাসের শঙ্কা কম। কোনো বন্ধুর সঙ্গে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা প্রোগ্রাম ইনস্টল করলেও ভাইরাস দেখা দিতে পারে। আর কম্পিউটারে অন্য কোনো ডিভাইস যেমন- ফ্লপি, সিডি রম, আলাদা হার্ডডিস্ক এবং বিশেষ করে পেনড্রাইভের মাধ্যমে ফাইল আদান-প্রদানে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আর এগুলো না করা হলে ভাইরাস আক্রান্ত হবার পথ খোলা থাকে কেবল ওয়েবসাইট এবং ই-মেইলএর মাধ্যমে। 

অন্যদিকে ইন্টারনেট থেকে ফ্রি ডাউনলোড-এ আসক্ত হলে ভাইরাসে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা শতভাগ। বিভিন্ন লোভনীয় এবং চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে সেখানে ঢুকলেই সর্বনাশ। বলা হয়ে থাকে এগুলো হলো ‘ভাইরাসের আখড়া’। এছাড়াও বিভিন্ন পর্নো সাইট ও ম্যালওয়্যারভিত্তিক অজানা সাইটগুলোও ভাইরাসের খনি।
এগুলোতে ঘোরাঘুরির অভ্যাস থাকলে অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করার বিকল্প নেই। ।


পপ আপ রিমুভার
‘পপআপ’ ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের ক্ষেত্রে সবচে বিরক্তিকর বিষয়গুলোর একটি। এসব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুয়া সাইট। পপআপমুক্ত পিসি পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই পপআপ প্রটেকশন সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে। মোজিলা ফায়ারফক্স সহ বেশ কয়েকটি ব্রাউজারের সঙ্গেই দেয়া থাকে পপআপ ব্লক করার উপায়। এ ছাড়াও ইন্টারনেট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় পপআপ প্রটেকশনসহ টুলবার। এক্ষেত্রে গুগলের ফ্রি টুলবারটি যে কোনো ব্যবহারকারীর জন্য ভালো সমাধান হতে পারে।


ব্রাউজারের আপগ্রেড
এখনকার অধিকাংশ ব্রাউজারের সিকিউরিটি কন্ট্রোল আছে। ডাউনলোড করার সময়ই এসব ব্রাউজার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাইরাস আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়। অ্যান্টিভাইরাস বিভিন্ন টুল যোগ হওয়াতে এসব ব্রাউজার নিজেই অনেক ভাইরাস প্রবেশে বাধা দেয়। এ জন্যই ভালো ব্রাউজারে ভাইরাস আক্রমণের হার অনেক কম।


তাই অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ঝামেলা এড়াতে ব্রাউজারের সর্বশেষ সংস্করণটিই ব্যবহার করা শ্রেয়। কখনও জেনেশুনেও যদি ক্ষতিকর কোনো সাইট খুলতে চান সে ক্ষেত্রেও প্রচলিত অনেক ওয়েব ব্রাউজারই স্ক্রিনে সেটি দেখানোর আগেই সতর্ক করে দেবে। সার্ফিং করার সময় সময় আরো বেশি নিরাপত্তা অনুভব করতে ম্যাকাফি সাইট অ্যাডভাইজার টুল (http://www.siteadvisor.com) ব্যবহার করা যেতে পারে। এই টুল সার্চ রেজাল্টের সঙ্গে ক্ষুদ্র সাইট রেটিং আইকন দেখায়। এবং কোনো বিপদজনক সাইটে ঢোকার আগে সতর্ক করে দেয়।


মেইল পরিষ্কার করা
স্প্যাম হলো অদরকারি নানা রকম ই-মেইল। আর এসব মেইলের ছদ্মবেশে আসে ভাইরাস। সে কারণেই অপ্রয়োজনীয় বা অচেনা প্রেরকের মেইল ওপেন না করে বরং ডিলিট করে ফেলাই ভালো। মেইল সার্ভিসের স্প্যাম গার্ড প্রোটেকশন এনাবল করে রাখুন। এতে অনেকটা রক্ষা পাওয়া যায়। আর অনাকাঙ্ক্ষিত মেইলের হাত থেকে বাঁচতে যত্রতত্র কোনো সাইটে ই-মেইল এড্রেস দেয়া থেকে বিরত থাকুন।


স্পাইওয়্যার
এরা নানাভাবে পিসির ক্ষতি করে। যেমন- অপারেটিং সিস্টেমসহ হার্ডডিস্কের সব ডাটা করাপ্ট করা থেকে শুরু করে দূর থেকে আপনার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ কিংবা ডেটা চুরির মতো কাজও সংগঠিত হতে পারে এর মাধ্যমে। আমরা অনেকেই স্পাইওয়্যারের কথা জানি না। এরা মূলত ওয়েব পেজের সঙ্গে পিসিতে ছড়ায়। মাইক্রোসফট করপোরেশনের ওয়েবসাইটে www.microsoft.com থেকে স্পাইওয়্যার রিমুভার সংগ্রহ করতে পারেন। এ ছাড়া www.download.com থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্পাইওয়্যার রিমুভার সফটওয়্যার সংগ্রহ করে ইনস্টল করে সাপ্তাহিকভাবে রান করান। স্ক্যান শেষে ফাইল বা প্রোগ্রাম এররগুলো সারিয়েও নেয়া যায়।



পিরিয়ডিক স্ক্যান
অ্যান্টিভাইরাস ছাড়া পিসি চালাতে গেলে সতর্কতার সঙ্গে ভাইরাসের খোঁজে মাঝে মাঝে স্ক্যান করার প্রয়োজন পড়তে পারে। আর মাঝে মাঝে ভাইরাসের সন্ধানে স্ক্যান করলে নিরাপদ থাকে কম্পিউটার।

কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল ছাড়াও পিরিয়ডিক এই স্ক্যান করতে অনলাইন ফ্রি ভাইরাস স্ক্যানার ব্যবহার করা যায়। এইরকম অনলাইনে ফ্রি স্ক্যানার পাওয়া যাবে নানা ওয়েব সাইটেই, তবে নিচের এই তিনটি সাইট নির্ভরযোগ্য। 

www.eset.com/online-scanner, onlinescan.avast.com, এবং housecall.trendmicro.com



সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন
যদি কোনো সাইটের ফ্রি স্ক্যানার ব্যবহার না করা হয় বা অ্যান্টিভাইরাস নিতেও আপত্তি থাকে তবে সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন পিসির কোনো ঝুঁকি বা হুমকি শনাক্ত করতে পারে। এই নিরাপত্তা অ্যাপ্লিকেশনের খরচও অ্যান্টিভাইরাসের তুলনায় অনেক কম।
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/মিন্টু/এইচবি/এইচআর/আগস্ট ১৫/১০ অবলম্বনে।