একদিকে পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, জ্বালানীর ব্যবহার বাড়ছে, কার্বণ-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হচ্ছে, আর অন্যদিকে গাছ কেটে ফেলে আমরা নিজেদের জন্য বসতির ব্যবস্থা করছি। তাই আমরা যে পরিমাণ কার্বণ-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করছি তা শুষে নেয়ার মত গাছ এখন আর পৃথিবীতে অবশিষ্ট নেই। আর তার উপরে আমরা ব্যবহার করছি গাড়ী, যা পৃথিবীতে জ্বালানীর ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সর্বোপরি বাতাসে কার্বণ-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ী।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, একটি average আমেরিকান গাড়ী বছরে ১১,৪৫০ পাউন্ড বা প্রায় ৫ টন এবং একটি হাল্কা ট্রাক বছরে প্রায় ১৬,০৩৫ পাউন্ড কার্বণ-ডাই-অক্সাইড বাতাসে নিঃসরণ করে (সুত্রঃ http://www.epa.gov/otaq/consumer/f00013.htm)। আরেক সমীক্ষায় দেখা যায়, বায়ুদূষণের মনুষ্যসৃষ্ট মূল কারণ গুলোর মধ্যে ২ নম্বরে রয়েছে গাড়ী থেকে নির্গত গ্যাস (সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)। এর ফলে পৃথিবীতে "গ্রীণহাউস ইফেক্ট" সৃষ্টি হচ্ছে, যা পৃথিবীতে কোন প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য খুবই জরুরী।
যাকে নিয়ে এত জল্পনা কল্পনা, যার নামে এত অভিযোগ, সেই গাড়ীই যদি আমাদের এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করে, সেই গাড়ীই যদি প্রমাণ করে সে মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে, বাতাসে দুষণ ছড়াবে না, তাহলে কেমন হয়!
গাছকে বলা হয় প্রকৃতির ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। কারণ গাছ বাতাস থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে তা থেকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করে প্রকৃতিতে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য একান্ত জরুরী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, আমরা (পৃথিবীর বাসিন্দারা) প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়াচ্ছি তা আর গাছের পক্ষে শুষে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু কেমন হত যদি গাড়ী শুষে নিত এই কার্বণ-ডাই-অক্সাইড আর বাতাসে ছড়িয়ে দিত অক্সিজেন!
চাইনিজ গাড়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Shanghai Automotive Industry Corporation সম্প্রতি প্রস্তুত করেছে এমনি এক গাড়ীর ডিজাইন। গাছের অক্সিজেন তৈরীর প্রক্রিয়াকে ফোটোসিন্থেসিস বলে। চাইনিজ এই প্রতিষ্ঠানটি তার উদ্ভাবিত গাড়ীতে এই পদ্ধতি যুক্ত করবে বলে দাবী করছে। ফোটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়ায় এই গাড়ীটিও বাতাস থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে নিজের জন্য জ্বালানী প্রস্তুত করবে এবং বিনিময়ে বাতাসে ছেড়ে দেবে অক্সিজেন, যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একান্ত অপরিহার্য। যদিও গাড়ীটির ডিজাইন এখনও স্কেচে রয়ে গেছে, তারপরও এটি একটি গুরুত্বপুর্ণ উদ্ভাবন বলেই মনে করা হচ্ছে।
সাংহাই এক্সপো-২০১০ এ চায়নাতে General Motors-এর সাথে partner SAIC এই YeZ কনসেপ্ট গাড়ীর ডিজাইন প্রদর্শন করে। YeZ-এর উচ্চারণ হবে Yea-Zi, যা ম্যান্ডারিন চাইনিজ ভাষা থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে "পাতা"।
গাড়ীটির ডিজাইন থেকেই দেখা যাচ্ছে যে, এটি একটি পাতার আকৃতির গাড়ী, যার ছাদ হবে পাতার মত।
গাড়ীটির প্রযুক্তিগত কোন বিষয় বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে A Xinhua Article অনুযায়ী YeZ ডিজাইনার Ma Zhengkun-এর মতে, গাড়ীটির ছাদে থাকা সোলার সেল সুর্য থেকে শক্তি গ্রহণ করে বিদ্যুত উৎপন্ন করবে আর চার চাকা ঘুরে ঘুরে বাতাস থেকে শক্তি অর্জন করবে। CNET Asia Blogger-এর Juniper Foo-এর মতে গাড়ীটির ফ্রেম তৈরী হবে এমন এক অর্গানিক ধাতু দিয়ে, যা কার্বণ-ডাই-অক্সাইড আর পানির সাহায্যে বিদ্যুত উৎপন্ন করে একটি লিথিয়াম ব্যাটারিতে সঞ্চয় করে গাড়ীটি চালাতে সাহায্য করবে।
তবে এই কৃত্রিম ফোটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়াটি নিয়ে বানিজ্যিকভাবে কাজ করতে ২০৩০ সাল লেগে যাবে। আর আরেকটি বিষয় হল, যেই প্রযুক্তি এই গাড়ীটি ব্যবহার করছে তা বাস্তবে রূপ দিতে যে পরিমাণ resource প্রয়োজন পড়বে তা justified কিনা, তাও দেখার বিষয় আছে।
-রেজওয়ান
(Discovery News, Car Absorbs CO2: Spews Oxygen অবলম্বনে লিখিত।)
সুত্রঃ (http://news.discovery.com/tech/car-absorbs-co2-spews-oxygen.html)
No comments:
Post a Comment